কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অসুস্থতার অভিযোগের পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে রাজধানী ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে তাকে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) জানিয়েছে, আদিয়ালা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চের নির্দেশের পর ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আদালত তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছিল।
২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর এটি ইমরান খানের জন্য আদালত থেকে পাওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও পাবেন তিনি। কয়েক মাস ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার দেখা হয়নি। মঙ্গলবার রাতে তার এক বোন কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।
ইমরান খানের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এর আগে ইমরান খানের এক আইনজীবী দাবি করেছিলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা জানিয়েছেন, ইমরানের চিকিৎসায় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞও যুক্ত থাকবেন। একই সঙ্গে তার জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা সরকারের আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও আদালত উল্লেখ করেছে।
এদিকে ইমরান খানের সমর্থকদের হাসপাতালের সামনে জড়ো না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের বাইরে কোনো সংবাদ সম্মেলন না করার জন্যও তার দলকে সতর্ক করেছে আদালত।
ইমরান খান পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৩ সালের আগস্টে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস ও রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ শতাধিক মামলা হয়েছে। ইমরান খান এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি গত বছরের শেষ দিকে পৃথক একটি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
কারাবন্দি ইমরান খানকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনীতিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। তার সমর্থকদের বিভিন্ন বিক্ষোভের পর দেশটিতে ব্যাপক ধরপাকড়ও চালানো হয়েছে। কারাগারে থাকলেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খান এখনো অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচিত।